Top Ad unit 728 × 90

আপনার বিজ্ঞাপনটি দিতে ইমেইল করুন - worldhindutimesbd@gmail.com

শিরোনাম

{getPosts} $results={6} $label={recent}

এক বছরের প্রশিক্ষণ শেষে ‘নাস্তা না খাওয়ার’ অভিযোগে ছাঁটাই অভিজিৎ

 

নিজস্ব প্রতিবেদক:

অভিযোগ ‘নাস্তা না খেয়ে শৃঙ্খলাভঙ্গ’: ১ বছরের প্রশিক্ষণের পর এসআই পদ থেকে অব্যাহতি, ভেঙে পড়েছেন অভিজিৎ 

বাংলাদেশ পুলিশের ৪০তম ক্যাডেট সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) ব্যাচের প্রশিক্ষণ শেষের প্রাক্কালে ‘নাস্তা না খেয়ে শৃঙ্খলাভঙ্গের’ অভিযোগে অব্যাহতি পেয়েছেন অভিজিৎ কুমার শীল নামের এক প্রার্থী। দীর্ঘ এক বছর মৌলিক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করার পর এমন সিদ্ধান্তে হতাশা ও অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তিনি।

 

অভিজিৎ কুমারের বাড়ি যশোরের মনিরামপুরে। কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে ২০২৩ সালে বাংলাদেশ পুলিশের এসআই (ক্যাডেট) পদে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হন। একই বছরের ৪ নভেম্বর রাজশাহীর সারদা পুলিশ একাডেমিতে এক বছরের প্রশিক্ষণে যোগ দেন।

 

অভিযোগ সম্পর্কে অভিজিৎ বলেন, প্যারেড সেশনে নাস্তা না খেয়ে হইচই করার অভিযোগে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তবে তার দাবি, তিনি মূল প্যারেডে ছিলেন না; প্যারেড কমান্ডারের আলাদা প্র্যাকটিসে অংশ নিচ্ছিলেন।


“আমাদের নাস্তা খাওয়ার সুযোগ থাকত সবার শেষে। সেদিন যথাসময়ে নাস্তা খেয়ে আগেই প্র্যাকটিসে যোগ দিই। অথচ আমাকে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ দেওয়া হয়েছে,” বলেন তিনি।

 

নিজের বিরুদ্ধে আনা ‘অপবাদ’ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিজিৎ বলেন, “জীবনে রাজনীতির ‘র’ করিনি, কোনো সুপারিশ নিয়ে আসিনি, কোনো আর্থিক লেনদেনও করিনি। গর্ব করে বলতাম—চাকরি পেতে এক টাকাও লাগে না। অথচ এখন সেই আমাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করা হচ্ছে।”

 

প্রশিক্ষণকালীন আর্থিক চাপের কথাও তুলে ধরেন তিনি। জানান, প্রতি মাসে প্রায় ৭-৮ হাজার টাকা ব্যক্তিগত খরচ, আইনের বই কিনতে ১০-১২ হাজার টাকা এবং অতিরিক্ত খরচ বহন করতে হতো পরিবার থেকে।


“মা-বাবার কাছে টাকা চাইতে যে কী আত্মগ্লানি হতো, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন,” বলেন তিনি।

প্রশিক্ষণের সময় ব্যাংকের একটি চাকরির ভাইভার সুযোগ পেলেও অনুমতি না পাওয়ায় অংশ নিতে পারেননি বলেও জানান অভিজিৎ। তার ভাষায়, “ভাবছিলাম এসআই হবো, তাই ভাইভা না দিয়েই সন্তুষ্ট ছিলাম। কিন্তু শেষ পর্যন্ত চাকরিটাই চলে গেল।”

 

বর্তমানে পারিবারিক সংকট আরও তীব্র হয়েছে বলে জানান তিনি। অব্যাহতির কিছুদিন পর তার মা অসুস্থ হয়ে পড়েন, তবে অর্থাভাবে চিকিৎসা করাতে পারছেন না।


“বৃদ্ধ বাবা আর মাঠে কাজ করতে পারেন না। আমি এখন পরিবারের বোঝা হয়ে গেছি,” বলেন তিনি।

হতাশা প্রকাশ করে অভিজিৎ বলেন, “আমাকে এভাবে অন্ধকারে ঠেলে না দিয়ে যদি গুলি করে মেরে ফেলত, হয়তো এত কষ্ট হতো না।”

 

ঘটনাটি ২০২৫ সালে সংঘটিত হলেও সে সময় বিষয়টি প্রকাশ্যে আসেনি বলে দাবি করেছেন তিনি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

No comments:

অননুমোদিতভাবে কোনও বিষয়বস্তু অনুলিপি করা বা ব্যবহার করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ World Hindu Times All Right Reseved |

Contact Form

Name

Email *

Message *

Theme images by i-bob. Powered by Blogger.