Top Ad unit 728 × 90

আপনার বিজ্ঞাপনটি দিতে ইমেইল করুন - worldhindutimesbd@gmail.com

শিরোনাম

{getPosts} $results={6} $label={recent}

মাস্টারদা সূর্য সেন-এর ১৩২তম জন্মবার্ষিকী আজ: চট্টগ্রাম যুব বিদ্রোহের অমর নায়কের প্রতি শ্রদ্ধা

মাস্টারদা সূর্য সেন
স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম।


আজ ২২ মার্চ, মহান বিপ্লবী ও চট্টগ্রাম যুব বিদ্রোহের সর্বাধিনায়ক মাস্টারদা সূর্য সেন-এর ১৩২তম জন্মবার্ষিকী। ১৮৯৪ সালের এই দিনে চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার নোয়াপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা সংগ্রামে তাঁর অবদান ইতিহাসে এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে আছে।

ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের উত্তাল সময়ে, ১৯৩০ সালের ১৮ এপ্রিল মাস্টারদার নেতৃত্বে সংঘটিত চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠন ছিল এক সাহসী ও সুপরিকল্পিত অভ্যুত্থান। টেলিফোন ও রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করা, অস্ত্রাগার দখল এবং পুলিশ লাইনস নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার মাধ্যমে বিপ্লবীরা সাময়িকভাবে চট্টগ্রামকে ব্রিটিশ শাসন থেকে বিচ্ছিন্ন রাখতে সক্ষম হন। এই ঘটনাই ইতিহাসে ‘চট্টগ্রাম যুব বিদ্রোহ’ নামে পরিচিত।

চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার

পরবর্তীতে জালালাবাদ যুদ্ধ-এ ১২ জন বিপ্লবীর আত্মত্যাগ স্বাধীনতার আন্দোলনকে আরও তীব্র করে তোলে। মাস্টারদার নেতৃত্বে গড়ে ওঠা এই আন্দোলন ভারতবর্ষের স্বাধীনতা সংগ্রামকে নতুন গতি দেয় এবং যুবসমাজকে বিপ্লবী চেতনায় উজ্জীবিত করে।

চট্টগ্রামের এক সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম নেওয়া সূর্য সেন ছাত্রজীবন থেকেই বিপ্লবী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন। চট্টগ্রাম কলেজ ও বহরমপুর কলেজে অধ্যয়নকালে তিনি গুপ্ত সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হন এবং সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জনের লক্ষ্যে নিজেকে নিয়োজিত করেন।

চট্টগ্রামে ফিরে এসে তিনি শিক্ষকতার পাশাপাশি তরুণদের সংগঠিত করেন। তাঁর উদ্যোগে গড়ে ওঠে বিভিন্ন ব্যায়ামাগার ও ক্লাব, যেখানে বিপ্লবীদের শারীরিক ও সামরিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হতো। তাঁর দলে হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে তরুণ-তরুণীরা অংশ নেন, যা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

দীর্ঘ প্রস্তুতি ও পরিকল্পনার মধ্য দিয়ে সংগঠিত চট্টগ্রাম যুব বিদ্রোহ ছিল কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়; বরং এটি ছিল সুসংগঠিত বিপ্লবী কার্যক্রমের পরিণতি। তাঁর সহযোদ্ধাদের মধ্যে অনন্ত সিংহ, গণেশ ঘোষ, অম্বিকা চক্রবর্তীসহ অনেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

ব্রিটিশ শাসকগোষ্ঠীর হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার পর প্রহসনের বিচারে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হন এই মহান বিপ্লবী। ১৯৩৪ সালে ফাঁসির মঞ্চে আত্মাহুতি দিয়ে তিনি হয়ে ওঠেন স্বাধীনতার অমর প্রতীক।

মাস্টারদা সূর্য সেন-এর জন্মবার্ষিকীতে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন তাঁর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে। তাঁর আত্মত্যাগ ও আদর্শ আজও স্বাধীনতা, ন্যায় ও মানবতার সংগ্রামে প্রেরণা জোগায়।



আরো থাকছে,
সূর্যসেন কে নিয়ে কুমন্তব্য করলো জাতীয় বিপ্লব পরিষদের নেতা.


No comments:

অননুমোদিতভাবে কোনও বিষয়বস্তু অনুলিপি করা বা ব্যবহার করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ World Hindu Times All Right Reseved |

Contact Form

Name

Email *

Message *

Theme images by i-bob. Powered by Blogger.