Advertisement

আপনার বিজ্ঞাপনটি দিতে ইমেইল করুন - worldhindutimesbd@gmail.com

শিরোনাম

$results={6} $label={recent}

ইরানের শীর্ষ ধর্মীয় নেতাদের পূর্বপুরুষের শিকড় ভারতে—বারাবাঁকির ছোট্ট গ্রাম কিন্তুরে ইতিহাসের যোগসূত্র

 


আর্ন্তজাতিক সংবাদ ডেস্ক:

ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি-এর পারিবারিক শিকড় নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ভারতের উত্তর প্রদেশের বারাবাঁকি জেলার একটি প্রত্যন্ত গ্রাম কিন্তুর-এর সঙ্গে এই বংশের ঐতিহাসিক সংযোগ উঠে এসেছে বিভিন্ন প্রতিবেদনে।


ভারতের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, লক্ষ্ণৌ থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দূরে ঘাঘরা নদীর তীরে অবস্থিত এই শান্ত গ্রামটি একসময় শিয়া মুসলিম শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ছিল। বর্তমানে প্রায় ১৩ হাজার মানুষের এই গ্রামে মাত্র পাঁচটি শিয়া পরিবার বসবাস করছে।


স্থানীয় কাজমি পরিবার দাবি করে, তাদের পূর্বপুরুষদের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে সাইয়েদ আহমদ মুসাভি হিন্দি-র, যিনি ছিলেন রুহুল্লাহ খোমেনি-র দাদা। উল্লেখ্য, খোমেনিই ১৯৭৯ সালের ইরানের ইসলামি বিপ্লব-এর নেতৃত্ব দেন এবং ইরানের প্রথম সর্বোচ্চ নেতা হন।


ঐতিহাসিক সূত্র মতে, উনিশ শতকের শুরুতে কিন্তুরে জন্মগ্রহণ করেন সাইয়েদ আহমদ মুসাভি। ১৮৩০ সালের দিকে তিনি ভারত ত্যাগ করে প্রথমে ইরাকের নাজাফে যান এবং পরে ১৮৩৯ সালে ইরানের খোমেইন শহরে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। সেখান থেকেই ‘খোমেনি’ নামের উৎপত্তি।


বিবিসি সাংবাদিক ও লেখক বাকের মঈন তার বই Khomeini: Life of the Ayatollah-এ উল্লেখ করেন, তীর্থযাত্রার সময় নাজাফে গিয়ে সাইয়েদ আহমদের পরিচয় হয় ফারাহান অঞ্চলের এক জমিদারের সঙ্গে, যার উৎসাহে তিনি ইরানে স্থায়ী হন।


পরবর্তীতে তিনি একজন প্রভাবশালী শিয়া ধর্মগুরু হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। তার পুত্র সাইয়েদ মোস্তফা ছিলেন খোমেনির পিতা। ১৮৬৯ সালে মৃত্যুর পর সাইয়েদ আহমদকে কারবালায় দাফন করা হয়।


স্থানীয়দের মতে, কিন্তুর শুধু একটি গ্রাম নয়—এটি ভারত ও পশ্চিম এশিয়ার মধ্যে এক ঐতিহাসিক সেতুবন্ধনের প্রতীক। এখানকার কাজমি পরিবারের সদস্যরা বিশ্বাস করেন, তাদের পূর্বপুরুষদের এই অভিবাসনই পরবর্তীতে ইরানের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছে।


বর্তমানে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি-র নেতৃত্বে ইরানে যে রাজনৈতিক ও আদর্শিক ধারা চলছে, তা অনেকেই খোমেনির উত্তরাধিকার হিসেবে দেখছেন। তবে তারও বহু আগে, কিন্তুরের এক সাধারণ পরিবারের সিদ্ধান্ত ইতিহাসের গতিপথ বদলে দেয়।


উল্লেখ্য, এই গ্রামের সঙ্গে আরও জড়িয়ে আছে শিক্ষাবিদ সাইয়েদ করামত হুসাইন-এর নাম, যিনি আলাহাবাদ হাইকোর্টের বিচারপতি ছিলেন এবং লক্ষ্ণৌতে নারী শিক্ষার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।


ভারতের একটি ছোট্ট গ্রাম থেকে শুরু হয়ে ইরানের ক্ষমতার কেন্দ্র পর্যন্ত বিস্তৃত এই ইতিহাস প্রমাণ করে—ভৌগোলিক সীমা পেরিয়ে একটি পরিবারের উত্তরাধিকার কিভাবে বিশ্ব রাজনীতি ও ধর্মীয় ইতিহাসে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।

কোন মন্তব্য নেই:

অননুমোদিতভাবে কোনও বিষয়বস্তু অনুলিপি করা বা ব্যবহার করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ World Hindu Times All Rights Reserved |

World Hindu Times LTD

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.