১২ বছর বয়সী হিন্দু কিশোরীকে অপহরণ, জোরপূর্বক ধর্মান্তর এবং বিয়ে
মিরপুরখাস জেলার কোট গোলাম মুহাম্মদ এলাকার বুখারি ফার্মের কাছে একটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক ঘটনা সামনে এসেছে, যেখানে লক্ষ্মী কোহলি নামের ১২ বছর বয়সী এক হিন্দু কিশোরীকে অপহরণ করে জোরপূর্বক ধর্মান্তরিত করা হয়েছে এবং বিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বুখারি ফার্ম গ্রামের বাসিন্দা পারভেজ মারি নামের এক ব্যক্তি নাবালিকা লক্ষ্মী কোহলিকে প্রলুব্ধ করে সামারোর পীর উমর জান সারহান্ডিতে নিয়ে যায়। সেখানে জোরপূর্বক তার ধর্ম পরিবর্তন করিয়ে মেয়েটির বিয়ে দেওয়া হয়।
সূত্র থেকে আরও জানা গেছে যে, মেয়েটির আসল বয়স গোপন করার জন্য ধর্মান্তরের সার্টিফিকেটে তার বয়স মিথ্যাভাবে ১৯ বছর লেখা হয়েছিল। এটি কেবল আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘনই নয়, সিন্ধুর দরিদ্র হিন্দু পরিবারগুলোর প্রতি একটি গুরুতর অবিচারও বটে।
এই ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটেছে যখন সিন্ধুতে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইনের অধীনে বাল্যবিবাহ আইনত নিষিদ্ধ। তা সত্ত্বেও, সামারোর সারহান্ডির সাথে যুক্ত গোষ্ঠীগুলো নাবালিকা হিন্দু মেয়েদের ধর্মান্তরিত করে তাদের বিয়ের ব্যবস্থা করে চলেছে বলে অভিযোগ উঠেছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং অন্যায়।
সিন্ধুতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্বকারী সমাজকর্মী ও নেতারা নাবালিকা মেয়েদের অপহরণ, জোরপূর্বক ধর্মান্তর এবং জোরপূর্বক বিয়ের ক্রমবর্ধমান ঘটনায়, বিশেষ করে হিন্দু এবং অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে, গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বিদ্যমান আইন থাকা সত্ত্বেও, কার্যকর প্রয়োগের অভাবে এই ধরনের ঘটনা অব্যাহত রয়েছে এবং এমনকি বাড়ছে।
নাগরিক সমাজ সিন্ধু সরকার, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলোর কাছে এই ঘটনার অবিলম্বে ব্যবস্থা গ্রহণ, মেয়েটিকে উদ্ধার করে তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।
এই ঘটনাগুলো সিন্ধুর সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে ভয় ও নিরাপত্তাহীনতা বাড়িয়ে দিয়েছে, যা একটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক পরিস্থিতি।



.png)

%20.png)

No comments: