ভালুকায় দিপু চন্দ্র দাস হত্যা: পরিবারের পাশে দাঁড়াতে সংবাদ সম্মেলন, ৪০ লাখ টাকার সহায়তা
স্টাফ রিপোর্টার:
ময়মনসিংহের ভালুকায় মিথ্যা ধর্ম অবমাননার অভিযোগে নির্মমভাবে পিটিয়ে ও আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা দিপু চন্দ্র দাসের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে এবং আর্থিক সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।
রাজধানীর সেগুনবাগিচায় অবস্থিত ঢাকা ক্রাইম রিপোর্টার্স ইউনিট (ক্র্যাব) মিলনায়তনে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনের উদ্যোগ নেয় বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোট। মানবিক দায়বদ্ধতা ও ন্যায়বিচারের দাবিকে সামনে রেখে আয়োজিত এই সম্মেলনে জোটের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন অধ্যক্ষ হিরেন্দ্র নাথ বিশ্বাস। এসময় উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক অশোক তরু সাহা, সহকারী অধ্যাপক ড. কুশল বরণ চক্রবর্তী, অ্যাডভোকেট সুমন কুমার রায়, অ্যাডভোকেট সুশান্ত অধিকারীসহ জোটের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
বক্তারা জানান, গত ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে ময়মনসিংহের ভালুকায় পায়োনিয়ার নিট কম্পোজিট ফ্যাক্টরির কর্মচারী দিপু চন্দ্র দাস এক নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। মিথ্যা ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে একদল দুর্বৃত্ত তাকে মারধর করে হত্যা করে এবং জীবন্ত অবস্থায় আগুনে পুড়িয়ে দেয়। এ ঘটনায় দেশজুড়ে শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ঘটনার পর থেকেই বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোট নিহতের পরিবারের পাশে রয়েছে। জোটের নেতারা পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে মানসিক ও সামাজিক সহায়তা প্রদান করছেন। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে পরিবারটির প্রাপ্য সহায়তা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এসময় দিপু চন্দ্র দাসের কর্মস্থল পায়োনিয়ার নিট কম্পোজিট ফ্যাক্টরির মালিকপক্ষ তার পরিবারের হাতে ৪০ লাখ টাকার চেক তুলে দেয়। বক্তারা এই সহায়তাকে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেন।
বক্তারা আরও জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ইতোমধ্যে ২৬ জনকে আটক করেছে। মামলাটি বর্তমানে ময়মনসিংহ ডিবি পুলিশের তত্ত্বাবধানে তদন্তাধীন রয়েছে এবং এখন পর্যন্ত কোনো আসামি জামিন পাননি।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা দাবি জানান, হত্যাকাণ্ডে জড়িত সকল অপরাধীকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একইসঙ্গে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং গুজব ও মিথ্যা অভিযোগের ভিত্তিতে সহিংসতা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর জোর দেন তারা।
বক্তারা বলেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ হিসেবে বাংলাদেশে সকল ধর্মের মানুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করা জরুরি। ভবিষ্যতে এ ধরনের নৃশংস ঘটনা রোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
পরিশেষে, মানবতা, ন্যায়বিচার ও সম্প্রীতির স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন সমাপ্ত হয়।




.png)

%20.png)

No comments: