সুষ্ঠূ তদন্তের জন্য চিন্ময় প্রভুর মামলা ডিবি থেকে পিবিআই এর কাছে হস্তান্তর
চট্টগ্রামে চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী-এর জামিন আবেদনকে কেন্দ্র করে আদালত প্রাঙ্গণে সংঘটিত সহিংসতা, ভাঙচুর ও আইনজীবী হত্যার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার তদন্তভার মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) থেকে সরিয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-কে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
বুধবার আবু বকর সিদ্দিক এ আদেশ দেন। দীর্ঘ সময়েও মামলার তদন্তে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় আদালত এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
নিহত আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ-এর ভাই জানে আলম মামলাটি দায়ের করেন। মামলার তদন্তে আগে দায়িত্বে ছিলেন ডিবি উত্তর বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার মোস্তফা কামাল। তবে তদন্ত কার্যক্রমে অসন্তোষ প্রকাশ করে তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তনের আবেদন জানান মামলার বাদী।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর চট্টগ্রাম আদালত প্রাঙ্গণে সংঘটিত সহিংসতা ও আইনজীবী আলিফ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ডিবি দীর্ঘ সময় তদন্ত চালালেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখাতে পারেনি। শুনানিকালে আদালতে উপস্থিত তদন্ত কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল মামলার অগ্রগতি নিয়ে আদালতের বিভিন্ন প্রশ্নের সন্তোষজনক জবাবও দিতে পারেননি বলে জানা যায়।
আলিফ হত্যা মামলার আইনজীবী এবং চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী বলেন, “মামলার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতেই আদালত পিবিআইকে তদন্তভার দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।”
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, মামলায় এজাহারভুক্ত ও অজ্ঞাতনামা মিলিয়ে ৪০০ থেকে ৫০০ আসামির বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। কাউকে গ্রেপ্তারও করা সম্ভব হয়নি। তদন্ত সংস্থা পরিবর্তনের পেছনে এটিকেই অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গ্রেপ্তার চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীকে আদালতে হাজির করা হলে তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করা হয়। এর পর আদালত প্রাঙ্গণে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও সহিংসতার ঘটনা ঘটে। ওই সময় রঙ্গম কনভেনশন গলিতে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
ঘটনার পর হত্যা, ভাঙচুর ও বিস্ফোরক আইনে মোট পাঁচটি মামলা দায়ের করা হয়েছিল।



.png)

%20.png)

No comments: