ধর্ম-বর্ণের ঊর্ধ্বে মানবতা—‘মানুষ পরিচয়ই প্রথম’: প্রতিমন্ত্রী ইশরাক
রামকৃষ্ণ মিশনের ১৩০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সম্প্রীতির বার্তা, ধর্মীয় বিশ্বাসে আঘাত এলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি
ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার আগে মানুষ—এটাই আমাদের প্রথম ও প্রধান পরিচয় বলে মন্তব্য করেছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। শুক্রবার ঢাকার রামকৃষ্ণ মিশনের ১৩০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, “ধর্ম-বর্ণের ভেদাভেদ ভুলে মানুষ হিসেবে একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধা ও সহমর্মিতা প্রদর্শন করাই আমাদের মূল পরিচয় হওয়া উচিত। এরপর আমরা বাঙালি—এটাই আমাদের সাংস্কৃতিক ঐক্যের ভিত্তি।” তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে সব নাগরিকের সমান মর্যাদা নিয়ে বেঁচে থাকার অধিকার রয়েছে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, “কোনোভাবেই যদি হিন্দু ধর্মের বিশ্বাসের ওপর আঘাত আসে, তা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে। দেশের প্রচলিত আইনে অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনা হবে।”
অনুষ্ঠানকে ঘিরে দিনব্যাপী পূজা, প্রার্থনা ও বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় মূল বক্তব্যে রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের অধ্যক্ষ স্বামী পূর্ণাত্মানন্দ বলেন, “রামকৃষ্ণ মিশনের মূল দর্শন হলো—ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষকে ঈশ্বর জ্ঞানে সেবা করা। মানবসেবাই প্রকৃত ধর্ম।”
প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন তার ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণে বলেন, রামকৃষ্ণ মিশনের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের মাধ্যমে সম্প্রীতির বন্ধন আরও দৃঢ় হয়েছে।
সুপ্রীম কোর্টের বিচারপতি শ্রীসৌমেন্দ্র সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ইন্দিরা গান্ধী কালচারাল সেন্টারের প্রথম সচিব (রাজনৈতিক) ও পরিচালক অ্যান মেরি জর্জসহ বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক ব্যক্তিত্ব।
সম্প্রীতি, সহনশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধের বার্তা দিয়েই শেষ হয় রামকৃষ্ণ মিশনের ১৩০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আয়োজন।



.png)

%20.png)

No comments: