লিভার নষ্ট হওয়ার আগেই শরীর দেয় ১৩টি ভয়ংকর সংকেত
মানবদেহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হলো লিভার বা যকৃৎ। রক্ত থেকে বিষাক্ত পদার্থ ছেঁকে বের করা, হজমে সহায়তা করা এবং শরীরের প্রয়োজনীয় নানা উপাদান তৈরি করাসহ শতাধিক গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে এই অঙ্গটি। তবে লিভার ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুরু করলে অনেক সময় শুরুতে কোনো স্পষ্ট লক্ষণ দেখা যায় না। আর এ কারণেই লিভারের রোগকে “নীরব ঘাতক” বলেও অভিহিত করেন চিকিৎসকরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, লিভার ধীরে ধীরে দুর্বল বা রোগাক্রান্ত হলে শরীর কিছু সতর্ক সংকেত দিতে শুরু করে। এসব লক্ষণ অবহেলা করলে পরিস্থিতি জটিল হয়ে সিরোসিস, লিভার ফেইলিউর এমনকি ক্যান্সারের ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।
লিভার ক্ষতির ১৩টি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ হলো—
* ত্বক ও চোখ হলুদ হয়ে যাওয়া (জন্ডিস)
* পেটে ব্যথা বা অস্বাভাবিক ফোলাভাব
* সামান্য আঘাতেই শরীরে কালশিটে পড়ে যাওয়া
* কোনো কারণ ছাড়াই অতিরিক্ত চুলকানি
* পা ও গোড়ালি ফুলে যাওয়া
* হঠাৎ ওজন কমে যাওয়া
* ক্ষুধামন্দা
* বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া
* দীর্ঘস্থায়ী দুর্বলতা ও ক্লান্তি
* মলের রঙ ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া
* রক্তচাপ কমে যাওয়া
* মানসিক বিভ্রান্তি ও ভারসাম্যহীনতা
* শরীরে কাঁপুনি বা ট্রেমর দেখা দেওয়া
চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, ভাইরাল হেপাটাইটিস, ফ্যাটি লিভার, অতিরিক্ত মদ্যপান, স্থূলতা এবং অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন লিভারের ক্ষতির বড় কারণ। বর্তমানে ফ্যাটি লিভার রোগ দ্রুত বাড়ছে, যা পরবর্তীতে সিরোসিসের মতো মারাত্মক অবস্থায় রূপ নিতে পারে।
লিভারের সমস্যা শনাক্ত করতে সাধারণত রক্ত পরীক্ষা করা হয়। প্রয়োজনে আল্ট্রাসাউন্ড, সিটি স্ক্যান, এমআরআই কিংবা বায়োপসিও করা হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা লিভার সুস্থ রাখতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে— মদ্যপান ও ধূমপান পরিহার করা, স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া, নিয়মিত ব্যায়াম করা, নিরাপদ জীবনযাপন বজায় রাখা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ সেবন না করা।
তারা সতর্ক করে বলেছেন, শরীরে এসব লক্ষণের কোনোটি দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। কারণ প্রাথমিক অবস্থায় রোগ শনাক্ত করা গেলে অনেক ক্ষেত্রেই বড় ধরনের লিভার ক্ষতি প্রতিরোধ করা সম্ভব।



.png)

%20.png)

No comments: