২৪ লাখ টাকার বেশি বকেয়া! সাবেক চেয়ারম্যান এটিএম মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে সংখ্যালঘু ব্যবসায়ীর অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক | কুমিল্লা
কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার বিএনপি সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এটিএম মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ ইট ক্রয় করে দীর্ঘদিনেও বকেয়া টাকা পরিশোধ না করার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারী একজন সংখ্যালঘু ব্যবসায়ী, যিনি দাবি করেছেন যে কয়েক বছর ধরে পাওনা আদায়ের চেষ্টা করেও তিনি ন্যায়বিচার পাচ্ছেন না।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০২০ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে ভুক্তভোগীর ভাড়াকৃত ইটভাটা থেকে এটিএম মিজানুর রহমান বিপুল পরিমাণ ইট ক্রয় করেন। এসব ইট বুড়িচং উপজেলার লাটুয়াবাজার-গারুচৌ-ভারেল্লা এলাকায় নির্মিত দুটি বহুতল মার্কেট এবং একটি বৃহৎ পুকুরের বাউন্ডারি নির্মাণকাজে ব্যবহার করা হয় বলে দাবি করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর আইনজীবীর মাধ্যমে পাঠানো একটি লিগ্যাল নোটিশে উল্লেখ করা হয়, সরবরাহকৃত ইট ও নির্মাণসামগ্রীর মোট মূল্য ছিল ৬৮ লাখ ৪১ হাজার ১৫০ টাকা। এর মধ্যে বিভিন্ন সময়ে ৪৪ লাখ ১ হাজার টাকা পরিশোধ করা হলেও এখনও ২৪ লাখ ৪০ হাজার ১৫০ টাকা বকেয়া রয়েছে।
নোটিশে বলা হয়েছে, বকেয়া অর্থ আদায়ের জন্য বহুবার যোগাযোগ করা হলেও নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করা হয়েছে। কখনও বলা হয়েছে এত টাকা পাওনা থাকার কথা নয়, আবার কখনও দাবি করা হয়েছে যে অর্থ ম্যানেজারের কাছে পরিশোধ করা হয়েছে। তবে সেই অর্থ ব্যবসায়ীর কাছে পৌঁছেনি বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর দাবি, ২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যার সময়ও তিনি পাওনা টাকার বিষয়ে এটিএম মিজানুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তখন তাকে হিসাবপত্র নিয়ে দেখা করতে বলা হয় এবং দ্রুত বিষয়টির সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়। কিন্তু এরপরও বকেয়া টাকা পরিশোধ করা হয়নি।
প্রতিবেদকের হাতে থাকা একটি হোয়াটসঅ্যাপ বার্তায় দেখা যায়, ভুক্তভোগী অভিযুক্ত ব্যক্তির কাছে পাওনা টাকার বিস্তারিত হিসাব পাঠিয়ে অর্থ পরিশোধের অনুরোধ জানিয়েছেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, দেনার দায়ে তাদের পরিবারের বাড়িঘর পর্যন্ত বিক্রি করতে হয়েছে এবং পাওনা অর্থ পেলে তারা চরম আর্থিক সংকট থেকে কিছুটা মুক্তি পেতেন।
এদিকে ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে পাওনা অর্থ আটকে থাকায় তিনি মারাত্মক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। ব্যবসা পরিচালনায় অক্ষম হয়ে পড়ার পাশাপাশি দেনা পরিশোধ করতে গিয়ে ব্যক্তিগত সম্পদ বিক্রি করতে হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্য হওয়া এবং অভিযুক্ত ব্যক্তির রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাবের কারণে তার অভিযোগ যথাযথ গুরুত্ব পাচ্ছে না। ফলে বাধ্য হয়ে তিনি আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন।
ভুক্তভোগীর পাঠানো লিগ্যাল নোটিশে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বকেয়া অর্থ পরিশোধের আহ্বান জানানো হয়েছে। অন্যথায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে অভিযোগের বিষয়ে এটিএম মিজানুর রহমানের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।
ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, পাওনা অর্থ আদায়ের আশায় তিনি বিষয়টি কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্যের নজরেও আনেন। অভিযোগ শোনার পর এমপি মহোদয় এটিএম মিজানুর রহমানকে সাত দিনের মধ্যে বিষয়টি সমাধানের নির্দেশনা দেন বলে দাবি করা হয়েছে। কিন্তু সেই সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও বকেয়া অর্থ পরিশোধ বা কোনো কার্যকর সমাধান না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী। তার অভিযোগ, দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে কোনো অগ্রগতি হয়নি।
ভুক্তভোগী প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করে তার দাবি অনুযায়ী বকেয়া অর্থ দ্রুত আদায়ের ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।




.png)

%20.png)

No comments: