Advertisement

আপনার বিজ্ঞাপনটি দিতে ইমেইল করুন - worldhindutimesbd@gmail.com

শিরোনাম

$results={6} $label={recent}

কিশোরগঞ্জে মহাশ্মশানের ঐতিহাসিক মঠ ও ভূমি দখলের অভিযোগ

কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার সতাল মহাশ্মশান ঘাট। প্রায় দেড়শত বছর ধরে এই অঞ্চলের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শেষ বিদায়ের সাক্ষী এবং ধর্মীয় আবেগের এক পবিত্র স্থান। কিন্তু কালের আবর্তে টিকে থাকা এই শ্মশানের ঐতিহাসিক একটি মঠ ও তার চারপাশের ভূমি এখন অস্তিত্ব সংকটে। স্থানীয় এক প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে মঠসহ শ্মশানের প্রায় দুই শতাংশ জায়গা জোরপূর্বক দখল করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে, যা নিয়ে ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে।


স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রায় ১৫০ বছর আগে শ্মশান ঘাটের নিজস্ব জায়গায় এই ঐতিহাসিক মঠটি স্থাপিত হয়েছিল। এটি কেবল একটি ধর্মীয় স্থাপনা নয়, বরং এলাকার দেড়শ বছরের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের এক জীবন্ত প্রতীক। কিন্তু সম্প্রতি এলাকার এক প্রভাবশালী ব্যক্তি শ্মশানের সীমানা প্রাচীর বা বাউন্ডারির বাইরে ঠেলে দিয়েছেন এই প্রাচীন মঠটিকে, যা ধর্মীয় অনুভূতিতে গভীর আঘাত হেনেছে।


সতাল মহাশ্মশান কমিটির সভাপতি বাপ্পি দত্ত গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমাদের জন্মের পর থেকেই এই শ্মশানের মঠ এবং এর চারপাশের জায়গা শ্মশানের সম্পত্তি হিসেবেই দেখে আসছি। এটি আমাদের পূর্বপুরুষদের স্মৃতি এবং পবিত্র স্থান। কিন্তু কিছুদিন আগে এলাকার এক ব্যক্তি ক্ষমতার জোরে বাউন্ডারির বাইরে নিয়ে গেছেন এই মঠটিকে। মঠসহ শ্মশানের প্রায় দুই শতাংশ জায়গা এখন উনার দখলে চলে গেছে।


ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় এই স্থাপনাটি রক্ষায় এবং এর পবিত্রতা বজায় রাখতে এখন প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা অবিলম্বে প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মাধ্যমে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন, যাতে শ্মশানের বেদখল হওয়া ভূমি দ্রুত শ্মশান কর্তৃপক্ষের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।


এই বিষয়ে একাত্মতা প্রকাশ করে কিশোরগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের পরিচালক জহিরুল ইসলাম সেলিম বলেন,এই শ্মশানটি প্রায় দেড়শ বছরের পুরোনো এবং শ্মশানের জায়গাতেই মঠটি স্থাপন করা হয়েছিল। ঐতিহ্য এবং মানবিকতার খাতিরে যারা শ্মশানের এই পবিত্র জায়গা দখল করেছে, তাদের প্রতি আমার জোর দাবি অনতিবিলম্বে এই জায়গা শ্মশানকে ফেরত দেওয়া হোক।


একটি প্রাচীন ধর্মীয় উপাসনালয় এবং শ্মশানের মতো সংবেদনশীল জায়গার ভূমি দখল করে নেওয়ার এই ঘটনায় এলাকায় চাপা উত্তেজনা ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। মানবিক ও ধর্মীয় অধিকার রক্ষায় স্থানীয় প্রশাসন দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে এমনটাই প্রত্যাশা কিশোরগঞ্জের সচেতন নাগরিক সমাজের।

কোন মন্তব্য নেই:

অননুমোদিতভাবে কোনও বিষয়বস্তু অনুলিপি করা বা ব্যবহার করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ World Hindu Times All Rights Reserved |

World Hindu Times LTD

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.