Advertisement

আপনার বিজ্ঞাপনটি দিতে ইমেইল করুন - worldhindutimesbd@gmail.com

শিরোনাম

$results={6} $label={recent}

রামুতে গৃহকর্মী মায়া চাকমার রহস্যজনক মৃত্যু: ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ, সুষ্ঠু তদন্তের দাবি

  

কক্সবাজারের রামুতে মায়া চাকমা (প্রায় ১৬-১৭) নামে এক গৃহকর্মীর রহস্যজনক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, এটি আত্মহত্যা নয়; বরং ধর্ষণের পর বালিশ চাপা দিয়ে তাকে হত্যা করা হয়েছে। অভিযোগের তীর উঠেছে গৃহকর্তা সাধন বড়ুয়ার ছেলের বিরুদ্ধে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, মায়া চাকমার বাড়ি খাগড়াছড়ির তেলখোলা গ্রামে। তার পিতা ক্যউছিং চাকমা ও মাতা রাছিংমা চাকমা। প্রায় এক বছর আগে জীবিকার তাগিদে তাকে রামুর পশ্চিম পাড়া মেরোরুওয়া এলাকায় সাধন বড়ুয়ার বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে কাজে পাঠানো হয়।


মায়ার বাবা জানান, প্রায় এক মাস আগে মেয়ের সঙ্গে তার সর্বশেষ কথা হয়। তখন মায়া স্বাভাবিক ও হাসিখুশি ছিল। তিনি মেয়েকে বাড়িতে নিয়ে আসার কথা বললে মায়া জানায়, পহেলা বৈশাখের আগে গৃহকর্তা নিজেই তাকে বাড়িতে পৌঁছে দেবেন। এ আশ্বাসে তিনি রাজি হন।


কিন্তু হঠাৎ করেই পরিস্থিতি পাল্টে যায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন সকালে মেয়ের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। পরে বিকেলের দিকে মায়ার খালার ফোনে বাড়ির পক্ষ থেকে সংক্ষিপ্তভাবে জানানো হয় "তাড়াতাড়ি আসেন" এবং কল কেটে দেওয়া হয়।


এরপর পরিবারের সদস্যরা দ্রুত রামুর উদ্দেশ্যে রওনা দেন। রাত প্রায় ৮টার দিকে তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেখেন, মায়ার মরদেহ কাফনের কাপড়ে ঢাকা। উপস্থিত লোকজন ও পুলিশ তাদের জানায়, মায়া গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে।


তবে পরিবারের দাবি, ঘটনাস্থলে গিয়ে তারা আত্মহত্যার কোনো সুস্পষ্ট আলামত দেখতে পাননি। বরং তারা লক্ষ্য করেন, মায়ার মুখমণ্ডল অস্বাভাবিকভাবে কালো হয়ে গেছে, যা তাদের সন্দেহকে আরও ঘনীভূত করেছে।


মায়ার বাবার অভিযোগ, “আমার মেয়ে আত্মহত্যা করতে পারে না। তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।”


স্থানীয়দের কাছ থেকে তারা আরও জানতে পারেন, গৃহকর্তা সাধন বড়ুয়ার দুই ছেলে প্রবাসে থাকেন। তাদের একজন সম্প্রতি ফ্রান্স থেকে দেশে ফিরেছেন। পরিবার ও এলাকাবাসীর একাংশের সন্দেহ, ওই ছেলের সঙ্গে ঘটনার কোনো যোগ থাকতে পারে। যদিও এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি।


পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার পর তাদের বিভিন্নভাবে মামলা না করার জন্য প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তাদের বলা হয়েছে, মামলা করতে গেলে বিপুল খরচ হবে এবং তারা দরিদ্র হওয়ায় তা বহন করা কঠিন হবে। পরিবর্তে মেয়ের দাফন-সংক্রান্ত খরচ বহনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, একটি কিশোরী গৃহকর্মীর এমন মৃত্যু কোনোভাবেই সাধারণ ঘটনা হতে পারে না এবং এর সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া জরুরি।


মায়ার পরিবারের দাবি, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করতে হবে এবং দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে।


এ বিষয়ে রামু থানার পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, মরদেহের ময়নাতদন্তের রিপোর্টের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কোন মন্তব্য নেই:

অননুমোদিতভাবে কোনও বিষয়বস্তু অনুলিপি করা বা ব্যবহার করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ World Hindu Times All Rights Reserved |

World Hindu Times LTD

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.