মধ্যপ্রদেশে ‘ঘর ওয়াপসি’: মাদ্রাসা শিক্ষকের নাতি ইয়াকুবের সনাতন ধর্ম গ্রহণ, নাম হলো কৃষ্ণা
ডেস্ক রিপোর্ট:
ভারতের Khandwa জেলায় ‘ঘর ওয়াপসি’ ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ৪১ বছর বয়সী ইয়াকুব খান ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করে সনাতন ধর্ম গ্রহণ করেছেন। ধর্মান্তরের পর তাঁর নতুন নাম রাখা হয়েছে কৃষ্ণা।
জানা গেছে, পেশায় পুরসভার গাড়িচালক ইয়াকুব একজন মাদ্রাসা শিক্ষকের নাতি। তিনি হিন্দু নববর্ষ Gudi Padwa-এর দিন আনুষ্ঠানিকভাবে ধর্মান্তরিত হন।
মন্দিরে বৈদিক আচার
ধর্মান্তর অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয় Mahadevgarh Temple প্রাঙ্গণে। মন্দির কর্তৃপক্ষের দাবি, সম্পূর্ণ বৈদিক রীতিতে অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। এতে মুণ্ডন, হোমযজ্ঞ, গঙ্গাজল দিয়ে শুদ্ধিকরণ, মন্ত্রোচ্চারণ এবং আরতির মতো আচার পালন করা হয়।
অনুষ্ঠানের শেষে কৃষ্ণা ভগবান শিবের পূজা করেন এবং আশীর্বাদ নেন।
নিজের সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা
ধর্মান্তরের বিষয়ে কৃষ্ণা জানান, শৈশব থেকেই তাঁর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের প্রতি গভীর টান ছিল। তাঁর ভাষায়, “ছোটবেলা থেকেই কৃষ্ণের প্রতি আলাদা ভক্তি অনুভব করতাম, সেই বিশ্বাসই আমাকে এই সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করেছে।”
তিনি আরও জানান, পরিবারের পক্ষ থেকে আপত্তি ছিল, বিশেষ করে তাঁর দাদা যিনি স্থানীয় একটি মাদ্রাসার সঙ্গে যুক্ত। তবুও নিজের বিশ্বাসে অটল ছিলেন তিনি।
ঈদের আগে সিদ্ধান্ত
জানা যায়, Eid al-Fitr-এর দুই দিন আগে তিনি ধর্মান্তরের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেন এবং হিন্দু নববর্ষের দিনটিকেই বেছে নেন আনুষ্ঠানিকতার জন্য।
বর্তমানে কৃষ্ণার দাবি, তিনি সনাতন ধর্মেই জীবন উৎসর্গ করতে চান এবং ভবিষ্যতে অন্যদেরও নিজেদের বিশ্বাস খুঁজে নিতে উৎসাহিত করবেন।
আগেও হয়েছে এমন ঘটনা
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই মন্দির ও কিছু সংগঠনের উদ্যোগে এর আগেও একাধিক ‘ঘর ওয়াপসি’ কর্মসূচি হয়েছে। সম্প্রতি আরও একজন যুবক একইভাবে ধর্মান্তরিত হয়েছেন বলে জানা যায়।
মিশ্র প্রতিক্রিয়া
এই ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। একাংশের মতে, এটি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত বিশ্বাসের বিষয় এবং প্রত্যেকের ধর্ম বেছে নেওয়ার অধিকার রয়েছে। অন্যদিকে, কেউ কেউ মনে করছেন, এ ধরনের ঘটনা সামাজিক সম্প্রীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।
তবে মন্দির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পুরো প্রক্রিয়াটি স্বেচ্ছায় এবং শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। কোনও ধরনের চাপ বা জোরজবরদস্তির অভিযোগ তারা অস্বীকার করেছে।
এদিকে, ইয়াকুব খানের পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।




.png)

%20.png)

No comments: