ইন্দোনেশিয়ার কুটাই শিলালেখে বৈদিক আচার-অনুশীলনের প্রমাণ
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রাচীন ইতিহাসে নতুন করে আলোচনায় এসেছে ইন্দোনেশিয়ার বোর্ণিও দ্বীপের পূর্ব কালিমান্তান অঞ্চলের কুটাই এলাকায় আবিষ্কৃত প্রাচীন যুপ শিলালেখ। প্রায় ১৭০০ বছর পূর্বের এই শিলালেখগুলোতে বৈদিক আচার-অনুষ্ঠান, ব্রাহ্মণ্য সংস্কৃতি এবং দান-যজ্ঞের বিস্তৃত বিবরণ পাওয়া গেছে বলে ইতিহাসবিদরা জানিয়েছেন।
প্রত্নতাত্ত্বিক সূত্রে জানা যায়, East Kalimantan অঞ্চলের কুটাই এলাকায় আবিষ্কৃত এই শিলালেখগুলো মূলত লোহার স্তম্ভে উৎকীর্ণ। এগুলো “যুপ” নামে পরিচিত, যা বৈদিক যজ্ঞের সঙ্গে সম্পর্কিত স্তম্ভ হিসেবে ব্যবহৃত হতো। শিলালেখগুলোতে কুটাই রাজ্যের শাসক Mulavarman, তাঁর পিতা Aswawarman এবং দাদু Kudungga-এর নাম উল্লেখ রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই শিলালেখগুলো Sanskrit ভাষায় এবং Pallava script-এ লেখা, যা সে সময় দক্ষিণ ভারতীয় সাংস্কৃতিক প্রভাবের উপস্থিতি নির্দেশ করে। শিলালেখের একটি অংশে উল্লেখ রয়েছে—
“তস্য যজ্ঞস্য যুপয়ম্ দ্বিজেন্দ্রৈ সম্প্রকল্পিতহ”,
যার অর্থ, সেই যজ্ঞের স্মৃতিতে দ্বিজগণ এই স্তম্ভ নির্মাণ করেছিলেন।
অন্য একটি শিলালেখে রাজা মূলবর্মণের দানশীলতা ও গুণাবলীর বর্ণনা পাওয়া যায়। সেখানে বলা হয়েছে—
“শৃণ্বন্তো বিপ্রমুখ্যহ... বহুদান জীবদানম্”,
যার মাধ্যমে ব্রাহ্মণ ও জ্ঞানী ব্যক্তিদের উদ্দেশ্যে রাজার দানশীলতার কথা তুলে ধরা হয়েছে।
গবেষকদের মতে, এই শিলালেখগুলোতে “দ্বিজ”, “বিপ্র”, “যজ্ঞ”, “দান” ও “তপস্যা”র মতো বৈদিক পরিভাষার উপস্থিতি প্রাচীন ইন্দোনেশিয়ায় বৈদিক ধর্মীয় আচার-অনুশীলনের প্রভাবের ইঙ্গিত বহন করে। এটি দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে প্রাচীন সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় বিনিময়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বর্তমানে এই ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলো National Museum of Indonesia-এ সংরক্ষিত রয়েছে, যেখানে গবেষক ও দর্শনার্থীরা প্রাচীন কুটাই সভ্যতার এই গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ প্রত্যক্ষ করতে পারেন।
ইতিহাসবিদরা মনে করছেন, কুটাইয়ের এই শিলালেখগুলো শুধু ইন্দোনেশিয়ার নয়, বরং সমগ্র দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রাচীন সাংস্কৃতিক সংযোগ ও ধর্মীয় বিস্তারের ইতিহাস বোঝার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে বিবেচিত হবে।



.png)

%20.png)

No comments: