শ্রীঅঙ্গন গণহত্যা দিবস পালিত: ফরিদপুরে ৯ সন্ন্যাসী হত্যার ৫৫ বছর
১৯৭১ সালের ২১ এপ্রিল সংঘটিত কুখ্যাত শ্রীঅঙ্গন গণহত্যার ৫৫ বছর পূর্ণ হয়েছে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নৃশংসতার এক নির্মম উদাহরণ হিসেবে দিনটি আজও স্মরণ করা হয়।
স্থানীয় সূত্র ও ইতিহাসবিদদের তথ্যমতে, ওইদিন ভোরে পাকিস্তানি বাহিনী ফরিদপুরের গোয়ালন্দঘাটে আক্রমণ চালায়। মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে সংঘর্ষের পর সকাল ৯টার দিকে তারা এলাকা দখল করে এবং পরবর্তীতে ফরিদপুর শহরের দিকে অগ্রসর হয়। একই সময়ে হেলিকপ্টারে করে অতিরিক্ত সেনা নামানো হয় বলে জানা যায়।
শহরে প্রবেশের পথে গোলেখামোত এলাকায় অবস্থিত শ্রীঅঙ্গন মঠে তখন ধর্মীয় কীর্তন চলছিল। পরিস্থিতির অবনতি টের পেয়ে অনেকেই মঠ ত্যাগ করলেও ৯ জন সন্ন্যাসী থেকে যান। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, পাকিস্তানি সেনারা মঠে এসে কীর্তনরত সন্ন্যাসীদের বাইরে আসার নির্দেশ দেয়। কিন্তু তারা প্রার্থনা চালিয়ে গেলে সেনারা তাদের জোরপূর্বক বাইরে এনে সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করায়।
এরপর নির্বিচারে গুলি চালিয়ে অন্তত ৮ জন সন্ন্যাসীকে হত্যা করা হয়। একজন সন্ন্যাসী প্রাণ বাঁচাতে লুকিয়ে থাকতে সক্ষম হন বলে জানা যায়। হত্যাকাণ্ডের পর মঠে লুটপাট চালানো হয় এবং মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে যায় হামলাকারীরা।
পরদিন নিহতদের মরদেহ স্থানীয় প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় সরিয়ে নেওয়া হয়। ঘটনার কয়েকদিন পর, ২৬ এপ্রিল, পাকিস্তানি বাহিনী মঠের স্থাপনা ধ্বংস করে দেয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, শ্রীঅঙ্গন গণহত্যা ছিল ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ওপর পরিকল্পিত হামলার একটি দৃষ্টান্ত, যা মুক্তিযুদ্ধকালে বেসামরিক ও নিরস্ত্র মানুষের ওপর চালানো সহিংসতার চিত্র তুলে ধরে।
দিনটি উপলক্ষে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন শ্রদ্ধা নিবেদন ও স্মরণসভা আয়োজন করে। বক্তারা বলেন, এ ধরনের ঘটনার যথাযথ গবেষণা, সংরক্ষণ ও প্রজন্মান্তরে তুলে ধরা প্রয়োজন, যাতে ইতিহাস বিকৃতি না ঘটে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত চিত্র জানতে পারে।



.png)

%20.png)

No comments: