গরীবের ডাক্তার’ হয়ে ওঠার গল্প: এক সাহসী সিদ্ধান্তের নাম ডাঃ মনীষা চক্রবর্তী
বরিশালের মানুষের কাছে তিনি শুধু একজন চিকিৎসক নন—একটি আস্থার নাম। ডাঃ মনীষা চক্রবর্তী নিজের পেশাগত সাফল্য, ব্যক্তিগত স্বাচ্ছন্দ্য কিংবা নিরাপদ ভবিষ্যতের চেয়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানোকে বেছে নিয়েছেন—এমন উদাহরণ দেশে খুব বেশি নেই।
বরিশালেই তাঁর জন্ম ও বেড়ে ওঠা। শৈশব ও কৈশোর কাটে এই শহরের পরিচিত পরিবেশে। পরবর্তীতে বরিশাল মেডিকেল কলেজ থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে এমবিবিএস সম্পন্ন করেন। চিকিৎসক হিসেবে তাঁর পথচলা শুরু হয় স্বাভাবিকভাবেই—বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে সরকারি চাকরিতে যোগ দেন এবং বরিশালেই পোস্টিং নেন।
কিন্তু খুব দ্রুতই তিনি বুঝতে পারেন, কাঠামোগত সীমাবদ্ধতার মধ্যে থেকে সব সময় নিরপেক্ষভাবে মানুষের সেবা করা সম্ভব হয় না। এই উপলব্ধিই তাঁর জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। সরকারি চাকরি ছেড়ে তিনি সরাসরি মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন—যা অনেকের কাছে অপ্রচলিত, আবার অনেকের কাছে সাহসী।
এরপর থেকে তাঁর পরিচয় বদলে যায়—“গরীবের ডাক্তার” হিসেবে এলাকায় পরিচিত হয়ে ওঠেন। সীমিত সামর্থ্যের মানুষের জন্য চিকিৎসা সহজলভ্য করার চেষ্টা, সরল জীবনযাপন এবং মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা—এই তিনটি বিষয় তাঁর কাজকে আলাদা করে তুলে ধরে।
করোনাভাইরাস মহামারির সময় তাঁর ভূমিকা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। যখন অনেকেই সংক্রমণের ভয়ে দূরত্ব বজায় রেখেছেন, তখন তিনি নিজ জীবনের ঝুঁকি উপেক্ষা করে ঘরে ঘরে গিয়ে রোগীদের সেবা দিয়েছেন। সুরক্ষা, ভয় বা ব্যক্তিগত স্বার্থ—এসবকে পেছনে ফেলে তিনি মাঠে থেকেছেন, যা তাঁকে স্থানীয় মানুষের কাছে আরও নির্ভরতার প্রতীক করে তুলেছে।
পেশাগত দক্ষতা থাকা সত্ত্বেও তিনি কখনোই বিদেশমুখী হননি। চাইলে উন্নত জীবনের আশায় দেশের বাইরে যেতে পারতেন, কিংবা রাজধানীর নামী হাসপাতাল ও ব্যক্তিগত চর্চার মাধ্যমে আর্থিকভাবে স্বচ্ছল জীবন গড়তে পারতেন। কিন্তু তিনি সেই পথ বেছে নেননি। বরং নিজের শিকড়ের সঙ্গে যুক্ত থেকেছেন।
বর্তমানে তিনি শুধু চিকিৎসক নন, একজন সক্রিয় সামাজিক ও রাজনৈতিক কণ্ঠ হিসেবেও পরিচিত। স্থানীয় সমস্যা, উন্নয়ন ও মানুষের অধিকার নিয়ে সরব থাকেন। তাঁর অবস্থান স্পষ্ট—মানুষের পাশে থাকা এবং তাদের কথা বলা।
স্থানীয়দের মতে, উন্নয়ন শুধু অবকাঠামো দিয়ে হয় না; প্রয়োজন সৎ, দূরদর্শী এবং মানবিক নেতৃত্ব। সেই জায়গায় ডাঃ মনীষা চক্রবর্তীর মতো মানুষের উপস্থিতি একটি বড় শক্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে যেখানে মেধাবীরা প্রায়ই ব্যক্তিগত উন্নতির দিকে ঝুঁকে পড়েন, সেখানে তাঁর পথচলা একটি ভিন্ন বার্তা দেয়—নিজের জায়গায় থেকেও পরিবর্তন আনা সম্ভব, যদি সেই ইচ্ছা এবং সততা থাকে।



.png)

%20.png)

No comments: