Advertisement

আপনার বিজ্ঞাপনটি দিতে ইমেইল করুন - worldhindutimesbd@gmail.com

শিরোনাম

$results={6} $label={recent}

কুমিল্লায় কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগীর রহস্যজনক মৃত্যু: পরিবারের অভিযোগ ‘পরিকল্পিত হত্যা’

একজন তরুণ সরকারি কর্মকর্তা, সদ্য পেরোনো বিবাহবার্ষিকী, ঘরে রেখে যাওয়া ৯ মাসের সন্তান—সবকিছুকে পেছনে ফেলে রহস্যজনক মৃত্যুর শিকার হলেন কাস্টমস সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী (৩৪)। তার মৃত্যুতে শোক ও ক্ষোভে স্তব্ধ হয়ে পড়েছে কুমিল্লা।

শনিবার দুপুরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কোটবাড়ী এলাকায় একটি হোটেলের সামনে থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি কুমিল্লার বিবিরবাজার স্থলবন্দরে কর্মরত ছিলেন এবং তার বাড়ি গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায়।


পরিবার সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাত ১১টার দিকে চট্টগ্রাম থেকে কর্মস্থল কুমিল্লার উদ্দেশে রওনা দেন বুলেট বৈরাগী। রাত ১টা ২৫ মিনিটে স্ত্রী উর্মি হীরার সঙ্গে তার সর্বশেষ কথা হয়। এরপর থেকেই তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
স্বামীর কোনো খোঁজ না পেয়ে ভোররাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সহায়তা চান তার স্ত্রী এবং পরে পুলিশের দ্বারস্থ হন।


নিখোঁজের পর বুলেটের বন্ধুরা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের সহায়তায় মোবাইল লোকেশন ট্র্যাকিংয়ের উদ্যোগ নেন। প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, ভোর ৫টা ৩০ মিনিটের দিকে কুমিল্লা সদর উপজেলার চৌয়ারা বাজার এলাকার ‘আজিজ ম্যানশন’ সংলগ্ন এলাকায় তার মোবাইল ফোন সক্রিয় ছিল।
এ তথ্যকে ঘিরেই তৈরি হয়েছে নতুন প্রশ্ন—রাত দেড়টার পর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া একজন ব্যক্তির ফোন ভোরে ওই এলাকায় কীভাবে সক্রিয় হলো?


পরিবার ও স্বজনদের অভিযোগ, লোকেশন শনাক্ত হওয়ার পরও পুলিশ দ্রুত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। তাদের দাবি, সময়মতো অভিযান চালানো হলে হয়তো বুলেট বৈরাগীকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হতো।
অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট থানার একাধিক কর্মকর্তার বক্তব্যে তদন্তের শুরুতেই সমন্বয়হীনতার অভিযোগ উঠেছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রাথমিক তথ্য তাদের কাছে দেরিতে পৌঁছায়।


বুলেট বৈরাগীর মরদেহ উদ্ধার করা হয় পদুয়ার বাজার ও আলেখারচরের মধ্যবর্তী এলাকায় একটি হোটেলের সামনে থেকে। পুলিশের একাংশ প্রাথমিকভাবে এটিকে সড়ক দুর্ঘটনা হিসেবে দেখার ইঙ্গিত দিলেও পরিবার তা মানতে নারাজ।
তাদের যুক্তি—ঘটনাস্থলে তার ব্যক্তিগত জিনিসপত্র, যেমন মোবাইল ফোন বা ব্যাগ পাওয়া যায়নি, যা দুর্ঘটনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ফলে ছিনতাই বা পূর্বপরিকল্পিত হত্যার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।


মাত্র এক বছর সাত মাস আগে চাকরিতে যোগ দেওয়া বুলেট বৈরাগীর এমন মৃত্যুতে ভেঙে পড়েছে তার পরিবার। হাসপাতালে মর্গে স্বজনদের আহাজারিতে তৈরি হয় হৃদয়বিদারক দৃশ্য।
সহকর্মী ও স্থানীয়দের দাবি, এই মৃত্যুর পেছনের প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করতে হবে এবং ‘আজিজ ম্যানশন’ এলাকাকে কেন্দ্র করে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চালাতে হবে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, ঘটনাটি নিছক দুর্ঘটনা নাকি পরিকল্পিত অপরাধ—তা নির্ধারণে প্রযুক্তিগত তথ্য, সিসিটিভি ফুটেজ এবং প্রত্যক্ষ প্রমাণের ওপর নির্ভর করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে হবে।

কোন মন্তব্য নেই:

অননুমোদিতভাবে কোনও বিষয়বস্তু অনুলিপি করা বা ব্যবহার করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ World Hindu Times All Rights Reserved |

World Hindu Times LTD

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.