Advertisement

আপনার বিজ্ঞাপনটি দিতে ইমেইল করুন - worldhindutimesbd@gmail.com

শিরোনাম

$results={6} $label={recent}

ভোজশালা-কমল মৌলা মসজিদ বিতর্কে এএসআই রিপোর্ট: মিলেছে হিন্দু দেব-দেবীর মূর্তি, প্রাচীন মন্দিরের ইঙ্গিত


ভারতের মধ্যপ্রদেশের ধার জেলায় অবস্থিত বিতর্কিত ভোজশালা-কমল মৌলা মসজিদ চত্বরে পরিচালিত ভারতীয় প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপ বিভাগের (এএসআই) বৈজ্ঞানিক সমীক্ষায় একাধিক প্রাচীন প্রত্নবস্তু, মুদ্রা ও হিন্দু দেব-দেবীর ভাস্কর্য উদ্ধার হয়েছে। এএসআই-এর দাখিল করা প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এসব নিদর্শন থেকে ধারণা মিলছে যে মসজিদ নির্মাণের আগে সেখানে একটি প্রাচীন হিন্দু মন্দির বা জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র ছিল।


সোমবার মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের ইন্দোর বেঞ্চে জমা দেওয়া প্রতিবেদনে বলা হয়, সমীক্ষায় রুপা, তামা, অ্যালুমিনিয়াম ও ইস্পাতের তৈরি মোট ৩১টি মুদ্রা পাওয়া গেছে। এসব মুদ্রা ইন্দো-সাসানীয় যুগ থেকে শুরু করে দিল্লি সালতানাত, মালওয়া সালতানাত, মুঘল আমল, ধর রাজ্য এবং ব্রিটিশ শাসনামলের বলে উল্লেখ করেছে এএসআই।


প্রতিবেদন অনুযায়ী, সমীক্ষায় গণেশ, ব্রহ্মা, নরসিংহ, ভৈরবসহ বিভিন্ন হিন্দু দেব-দেবীর চিত্র খোদাই করা ৯৪টি ভাস্কর্য, স্থাপত্য উপাদান ও ভগ্নাংশ উদ্ধার করা হয়েছে। মার্বেল, বেলেপাথর, ব্যাসল্ট ও চুনাপাথরে নির্মিত এসব নিদর্শনে মানুষ ও নানা প্রাণীর চিত্রও পাওয়া গেছে।


এএসআই আরও জানায়, চত্বরে হিন্দু পৌরাণিক কাহিনীতে ব্যবহৃত কীর্তিমুখ, ব্যল এবং সিংহ, হাতি, ঘোড়া, বানর, সাপ, কচ্ছপ ও রাজহাঁসের মতো প্রাণীর ভাস্কর্যও মিলেছে। কিছু স্থানে মানব ও প্রাণীর চিত্র বিকৃত বা খোদাই করে মুছে ফেলার প্রমাণও পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।


সমীক্ষায় সংস্কৃত ও প্রাকৃত ভাষার একাধিক শিলালিপিও আবিষ্কৃত হয়েছে। এর মধ্যে একটি শিলালিপিতে পরমার বংশের রাজা নরবর্মণের নাম রয়েছে। আবার কিছু লেখায় খলজি শাসক মাহমুদ শাহের উল্লেখ পাওয়া গেছে, যেখানে একটি মন্দিরকে মসজিদে রূপান্তরের ইঙ্গিত রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।


এএসআই-এর পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, ভোজশালাটি একসময় রাজা ভোজ প্রতিষ্ঠিত জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র ছিল। হিন্দু সম্প্রদায় স্থানটিকে দেবী সরস্বতীর মন্দির হিসেবে মানলেও মুসলিম পক্ষ একে কমল মৌলা মসজিদ হিসেবে দাবি করে আসছে। দীর্ঘদিন ধরেই এই স্থানকে ঘিরে দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে।


উল্লেখ্য, ২০০৩ সালে এএসআই-এর এক নির্দেশনায় মঙ্গলবার হিন্দুদের পূজা এবং শুক্রবার মুসলমানদের নামাজ আদায়ের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। তবে সম্প্রতি হিন্দু পক্ষ সেই ব্যবস্থার বিরোধিতা করে আদালতে আবেদন জানায়। পরে মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের নির্দেশে চলতি বছরের মার্চে এএসআই বৈজ্ঞানিক সমীক্ষা শুরু করে এবং প্রায় তিন মাসব্যাপী সেই সমীক্ষার পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন আদালতে জমা দেয়।

কোন মন্তব্য নেই:

অননুমোদিতভাবে কোনও বিষয়বস্তু অনুলিপি করা বা ব্যবহার করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ World Hindu Times All Rights Reserved |

World Hindu Times LTD

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.