Advertisement

আপনার বিজ্ঞাপনটি দিতে ইমেইল করুন - worldhindutimesbd@gmail.com

শিরোনাম

$results={6} $label={recent}

প্রম্বানন মন্দিরে পাথরে লেখা রামায়ণ: ১১০০ বছরের ইতিহাসে জীবন্ত মহাকাব্য

 

ইন্দোনেশিয়ার দক্ষিণ জাভায় অবস্থিত প্রম্বানন মন্দিরের দেয়ালজুড়ে খোদাই করা আছে ভারতীয় মহাকাব্য রামায়ণের বিস্তৃত কাহিনি। প্রায় ১১০০ বছর আগে নির্মিত এই মন্দির আজও ইতিহাস, ধর্ম ও শিল্পকলার এক অনন্য সংমিশ্রণ হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।


৯ম শতাব্দীতে নির্মিত প্রম্বানন মন্দির কমপ্লেক্স মূলত হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের উপাসনালয় হিসেবে গড়ে ওঠে। ধারণা করা হয়, মন্দিরটি নির্মাণ করেছিলেন সাঞ্জয়া রাজবংশের শাসকরা। এর স্থাপত্যশৈলী যেমন জটিল, তেমনি এর দেয়ালে খোদাই করা কাহিনিগুলোও অসাধারণ নিখুঁততায় ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

 

মন্দিরের গায়ে খোদাই করা রিলিফগুলোতে দেখা যায় রামায়ণের  ধারাবাহিক বর্ণনা—রাজা দশরথ, রাম-সীতা, রাবণের লঙ্কা, এবং সীতাহরণের মতো গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলো পাথরের গায়ে জীবন্ত হয়ে উঠেছে। প্রতিটি দৃশ্য এমনভাবে সাজানো যে দর্শনার্থীরা এক প্রাচীন ‘ভিজ্যুয়াল স্টোরিবুক’-এর মধ্য দিয়ে হাঁটছেন বলে মনে হয়।

 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই রিলিফগুলো শুধু ধর্মীয় নয়, বরং ঐতিহাসিক দলিল হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এগুলো সেই সময়ের সমাজ, সংস্কৃতি ও শিল্পকলার প্রতিফলন তুলে ধরে। পাশাপাশি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ভারতীয় সংস্কৃতির প্রভাবেরও স্পষ্ট প্রমাণ মেলে এখানে।

 

১৯৯১ সালে UNESCO প্রম্বানন মন্দিরকে বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। এরপর থেকে এটি আন্তর্জাতিক পর্যটকদের কাছে একটি প্রধান আকর্ষণ হয়ে উঠেছে।

 

বর্তমানে সংরক্ষণ ও সংস্কার কাজ চললেও, প্রাকৃতিক ক্ষয় ও ভূমিকম্পের ঝুঁকি এখনো এই ঐতিহ্যের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। তবুও শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে দাঁড়িয়ে থাকা এই মন্দির যেন ইতিহাসের এক অটুট সাক্ষী হয়ে রয়েছে।প্রম্বানন মন্দির কেবল একটি স্থাপনা নয়—এটি পাথরে খোদাই করা এক জীবন্ত ইতিহাস, যেখানে রামায়ণের গল্প আজও সময়ের সীমানা পেরিয়ে মানুষকে মুগ্ধ করে চলেছে।

কোন মন্তব্য নেই:

অননুমোদিতভাবে কোনও বিষয়বস্তু অনুলিপি করা বা ব্যবহার করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ World Hindu Times All Rights Reserved |

World Hindu Times LTD

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.