বৈদিক সম্ভাষণ ‘নমস্কার’ প্রচারের আহ্বান, ঐক্যের প্রতীক হিসেবে দেখছেন গবেষক
চট্টগ্রাম: বৈদিক যুগ থেকে প্রচলিত ‘নমস্কার’ সম্ভাষণকে সকল সনাতন ধর্মাবলম্বীর মধ্যে সর্বজনীনভাবে ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছেন গবেষক ও লেখকরা। তাদের মতে, বর্তমান সময়ে বিভিন্ন সম্প্রদায়ভিত্তিক সম্ভাষণ যেমন ‘হরে কৃষ্ণ’, ‘জয় রাম’, ‘জয় মা’ বা ‘জয় গুরু’-এর পরিবর্তে বৈদিক ঐতিহ্যবাহী ‘নমস্কার’ ব্যবহারের মাধ্যমে বৃহত্তর ঐক্য ও সাংস্কৃতিক ধারাবাহিকতা রক্ষা করা সম্ভব।
সম্প্রতি এ বিষয়ে প্রকাশিত এক দীর্ঘ প্রবন্ধে লেখক ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার আলোকে উল্লেখ করেন, বিভিন্ন ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক সংগঠনের অনুসারীরা নিজ নিজ সম্প্রদায়ভিত্তিক সম্ভাষণ ব্যবহার করলেও ‘নমস্কার’ এমন একটি শব্দ যা বৈদিক যুগ থেকে আজ পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে প্রচলিত রয়েছে।
প্রবন্ধে ঋগ্বেদ, যজুর্বেদ, তৈত্তিরীয় আরণ্যক, মহাভারত, রামায়ণ, বিষ্ণুপুরাণ, শ্রীমদ্ভাগবত, শ্রীচণ্ডী ও অন্যান্য ধর্মগ্রন্থের উদ্ধৃতি দিয়ে দাবি করা হয় যে, ‘নমস্কার’ কেবল একটি সম্ভাষণ নয়; এটি শ্রদ্ধা, বিনয় এবং পরমেশ্বরের প্রতি আত্মসমর্পণের প্রতীক। বিভিন্ন শাস্ত্রে ‘নমঃ’ ও ‘নমস্কার’ শব্দের ব্যাপক ব্যবহার এবং এর আধ্যাত্মিক গুরুত্বের উল্লেখ পাওয়া যায়।
লেখকের মতে, নমস্কার কোনো ব্যক্তি বা দেহকে উদ্দেশ্য করে নয়; বরং প্রত্যেক জীবের অন্তর্নিহিত পরমাত্মার প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপনের বহিঃপ্রকাশ। এ কারণে শিশু, যুবক, বৃদ্ধ, নারী-পুরুষ কিংবা ভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ—সকলকেই নমস্কার জানানো যায়।
প্রবন্ধে আরও বলা হয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিসরে অনেকেই নিজেদের ধর্মীয় পরিচয় প্রকাশে সংকোচবোধ করে ‘নমস্কার’ ব্যবহারে দ্বিধা করেন। এই মানসিকতা পরিহার করে পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে নমস্কারের চর্চা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
লেখকের অভিমত, বৈদিক ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে ‘নমস্কার’কে পুনরুজ্জীবিত করা গেলে তা সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয়, পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সামাজিক ঐক্যকে আরও সুদৃঢ় করবে।




.png)

%20.png)

No comments: