ধর্মীয় অবমাননা ঠেকাতে জগন্নাথ হল সংসদের ৬ দাবি
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল সংসদ সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আরাধ্য দেবতা শ্রীরামের প্রতিকৃতি অবমাননার ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। একইসঙ্গে ঘটনার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত এবং ভবিষ্যতে ধর্মীয় অবমাননা রোধে সরকারের কাছে ছয় দফা দাবি উত্থাপন করেছে সংগঠনটি।
গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রতিবাদলিপিতে জগন্নাথ হল সংসদ নেতৃবৃন্দ বলেন, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, ধর্মীয় সম্প্রীতি এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের ঐতিহ্যের পরিপন্থী এ ধরনের কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
প্রতিবাদলিপিতে উল্লেখ করা হয়, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু ভিডিও ও ছবিতে দেখা গেছে, একদল ব্যক্তি হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের আরাধ্য দেবতা শ্রীরামের প্রতিকৃতিকে জুতাপেটা করে অবমাননা করেছে। এ ঘটনা শুধু হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুভূতিতেই আঘাত হানেনি, বরং দেশের সামাজিক সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য এবং সকল ধর্মের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের সংস্কৃতিকেও প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
নেতৃবৃন্দ বলেন, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ধর্মীয় বিশ্বাস ও প্রতীককে অবমাননা করা সভ্য সমাজের আচরণ হতে পারে না। এ ধরনের উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড একটি সম্প্রদায়ের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি করার পাশাপাশি সামগ্রিক সামাজিক স্থিতিশীলতাকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে।
বিবৃতিতে বাংলাদেশের সংবিধানের ১২, ২৭, ২৮ ও ৪১ অনুচ্ছেদের উল্লেখ করে বলা হয়, এসব অনুচ্ছেদ সকল নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা, সমান মর্যাদা ও আইনের সমান সুরক্ষা নিশ্চিত করে। তাই ধর্মীয় বিদ্বেষ ও উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড কখনোই মতপ্রকাশের স্বাধীনতার আওতায় পড়তে পারে না।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জগন্নাথ হল সংসদ প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ছয়টি দাবি উত্থাপন করেছে। দাবিগুলো হলো—
১. ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।
২. ধর্মীয় অবমাননা ও সাম্প্রদায়িক উসকানির বিরুদ্ধে কার্যকর আইনি ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
৩. সংবিধানের ১২, ২৭, ২৮ ও ৪১ অনুচ্ছেদের আলোকে ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
৪. সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত ও সাম্প্রদায়িক উসকানি প্রতিরোধে কার্যকর নজরদারি জোরদার করতে হবে।
৫. সকল ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।
৬. শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সামাজিক উদ্যোগের মাধ্যমে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সহনশীলতার চর্চা জোরদার করতে হবে।
প্রতিবাদলিপিতে জগন্নাথ হল সংসদের সহ-সভাপতি পল্লব চন্দ্র বর্মন, সাধারণ সম্পাদক সুদীপ্ত প্রামাণিক এবং সহ-সাধারণ সম্পাদক দীপজয় সরকার দীপ্ত স্বাক্ষর করেন।
বিবৃতিতে তারা দেশের সকল প্রগতিশীল নাগরিক, সামাজিক সংগঠন ও মানবাধিকারকর্মীদের ধর্মীয় বিদ্বেষ ও সাম্প্রদায়িক উসকানির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান। একইসঙ্গে সম্প্রীতি, সহনশীলতা ও পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে একটি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গঠনে সকলের দায়িত্বশীল ভূমিকার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।




.png)

%20.png)
No comments: