Top Ad unit 728 × 90

আপনার বিজ্ঞাপনটি দিতে ইমেইল করুন - worldhindutimesbd@gmail.com

শিরোনাম

{getPosts} $results={6} $label={recent}

বাংলাদেশ সীমান্ত ঘিরে লস্কর-ই-তৈয়বা নেটওয়ার্ক ভাঙল দিল্লি পুলিশ, বড় হামলার পরিকল্পনা নস্যাৎ


দুই মাসের অভিযানে গ্রেপ্তার ৮ জন; মূল হোতা শাব্বির লোনসহ অধিকাংশই বাংলাদেশি নাগরিক

নিউজ রিপোর্ট:

ভারতে বড় ধরনের সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনা নস্যাৎ করার দাবি করেছে দিল্লি পুলিশ। পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈয়বা-র একটি বাংলাদেশি মডিউল ভেঙে দিয়ে সংগঠনটির কমান্ডার শাব্বির আহমেদ লোনসহ মোট আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

দিল্লি পুলিশের কমিশনার সতীশ গোলচার-এর তত্ত্বাবধানে প্রায় দুই মাসব্যাপী এই অভিযান পরিচালিত হয়। সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা ভারতে বড় ধরনের নাশকতার প্রস্তুতি নিচ্ছিল।


অভিযানের সূত্রপাত

গত ৮ ফেব্রুয়ারি দিল্লির জনপথ মেট্রো স্টেশন-এ সন্দেহজনক পোস্টার দেখা যাওয়ার পর তদন্ত শুরু হয়। পোস্টারগুলোতে পাকিস্তানপন্থী স্লোগান, কাশ্মীর ইস্যুতে উস্কানিমূলক বার্তা এবং নিহত জঙ্গি বুরহান ওয়ানি-র ছবি ছিল।

পরবর্তীতে দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় একই ধরনের পোস্টার পাওয়া গেলে গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানো হয়।


দেশজুড়ে অভিযান ও গ্রেপ্তার

দিল্লি, কলকাতা এবং তিরুপুর-এ একাধিক অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয়।

  • ১৫ ফেব্রুয়ারি কলকাতায় অভিযানে গ্রেপ্তার হয় দুই মূল সদস্য উমর ফারুক ও রবিউল ইসলাম

  • ২১ ফেব্রুয়ারি তিরুপুরে একযোগে অভিযানে ধরা পড়ে আরও ছয়জন

গ্রেপ্তার হওয়া আটজনের মধ্যে সাতজনই বাংলাদেশি নাগরিক বলে জানিয়েছে পুলিশ। তারা অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করে জাল পরিচয়পত্র ব্যবহার করছিল।


পরিকল্পনা কী ছিল?

তদন্তে উঠে এসেছে, এই চক্রটি ভারতে বড় ধরনের হামলার উদ্দেশ্যে কাজ করছিল। অভিযুক্ত উমর ফারুকের দাবি, গত বছরের মার্চে শাব্বির লোনের সঙ্গে তার যোগাযোগ শুরু হয় এবং ধীরে ধীরে তাকে উগ্রপন্থায় জড়িয়ে ফেলা হয়।

তাদের দায়িত্ব ছিল—

  • গুরুত্বপূর্ণ স্থানের রেকি করা

  • নতুন সদস্য সংগ্রহ করা

  • স্থানীয়ভাবে অস্ত্র সংগ্রহের ব্যবস্থা করা

  • প্রচারণামূলক পোস্টার লাগানো

৬-৭ ফেব্রুয়ারির রাতে দিল্লির প্রায় ১০টি স্থানে পোস্টার লাগিয়ে তার ভিডিও তৈরি করে হ্যান্ডলারদের কাছে পাঠানো হয় বলেও জানা গেছে।


শাব্বির লোনের ভূমিকা

অভিযানের সবচেয়ে বড় সাফল্য হিসেবে ধরা হচ্ছে শাব্বির আহমেদ লোনের গ্রেপ্তার। বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে তাকে আটক করা হয়।

পুলিশ জানায়, তিনি পাকিস্তানে অবস্থানরত লস্কর-ই-তৈয়বার শীর্ষ হ্যান্ডলারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখতেন এবং ভারতে নতুন করে সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার কাজ করছিলেন।

তার বিরুদ্ধে আগে থেকেই সন্ত্রাসমূলক কর্মকাণ্ডের একাধিক মামলা রয়েছে। ২০০৭ সালে গ্রেপ্তার হওয়ার পর দীর্ঘদিন কারাভোগ করেন এবং ২০১৯ সালে জামিন পেয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে যান।


উদ্ধার সামগ্রী ও পরবর্তী পদক্ষেপ

অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে—

  • ১০টি মোবাইল ফোন

  • ২৫টি ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড

  • ৫টি পিওএস মেশিন

  • বাংলাদেশি পাসপোর্ট

  • উস্কানিমূলক পোস্টার

দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, শাব্বির লোনকে পাঁচ দিনের পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে জড়িত আরও ব্যক্তিদের খোঁজ চলছে।


বিশ্লেষণ (সংক্ষিপ্ত):
এই ঘটনাটি দেখাচ্ছে সীমান্ত ব্যবহার করে স্লিপার সেল তৈরির চেষ্টা নতুন নয়—কিন্তু এবার তা আগেভাগেই ভেঙে দেওয়া হয়েছে। তবে এখানে একটা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন থেকেই যায়: সীমান্ত নিরাপত্তা ও জাল পরিচয়পত্র ব্যবস্থার ফাঁকফোকর কতটা বড়, যেটা ব্যবহার করে এমন নেটওয়ার্ক গড়ে উঠতে পারে?

No comments:

অননুমোদিতভাবে কোনও বিষয়বস্তু অনুলিপি করা বা ব্যবহার করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ World Hindu Times All Right Reseved |

Contact Form

Name

Email *

Message *

Theme images by i-bob. Powered by Blogger.