টেকনাফে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: ১৪ হিন্দু পরিবারের ঘরবাড়ি পুড়ে ছাই, খোলা আকাশের নিচে দুর্ভোগ
টেকনাফ (কক্সবাজার), প্রতিনিধি:
কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের জালিয়া পাড়ায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১৪টি হিন্দু পরিবারের বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। আকস্মিক এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো মুহূর্তের মধ্যে নিঃস্ব হয়ে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছে।স্থানীয় সূত্র জানায়, হঠাৎ করে আগুন লাগার পর তা দ্রুত চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে এবং দাউ দাউ করে জ্বলে ওঠে পুরো এলাকা। আগুনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে বাসিন্দারা ঘর থেকে প্রয়োজনীয় কোনো মালামাল বের করার সুযোগ পাননি। অল্প সময়ের মধ্যেই বসতঘর, আসবাবপত্র, নগদ অর্থ, পোশাকসহ জীবনের সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
ক্ষতিগ্রস্তদের প্রাথমিক তালিকা অনুযায়ী, নিশি দাসের পরিবারে প্রায় ৭ লাখ টাকা, রাজকুমার দাসের পরিবারে ১০ লাখ টাকা, রাজ দাসের পরিবারে ৬ লাখ টাকা এবং রঞ্জিত দাসের পরিবারে প্রায় ৯ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া বাদল দাস, মিন্টু দাস, রুবেল দাস, কৃষ্ণপদ দাস, জনি দাস, ভাগ্য দাস, সিদুল দাস, রঞ্জু দাস, রামপদ দাস, কাজল দাস ও চিনু দাসসহ অন্যান্য পরিবারগুলোর ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ২ থেকে ১০ লাখ টাকার মধ্যে বলে জানা গেছে। সব মিলিয়ে মোট ক্ষতির পরিমাণ কয়েক কোটি টাকায় পৌঁছেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো চরম সংকটে রয়েছে। অনেকেই খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছেন। খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, পোশাক এবং জরুরি চিকিৎসা সহায়তার অভাব দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হলেও এখন পর্যন্ত পর্যাপ্ত ত্রাণ সহায়তা পৌঁছায়নি। এতে করে তাদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
এদিকে, স্থানীয় এলাকাবাসী ও সচেতন মহল দ্রুত মানবিক সহায়তা প্রদানের আহ্বান জানিয়েছেন। তারা বলছেন, সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগ ও সমাজের বিত্তবানদের সম্মিলিত সহায়তা ছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন সম্ভব নয়।
দ্রুত ত্রাণ বিতরণ, নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিতকরণ এবং দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন পরিকল্পনা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা, যাতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারে।



.png)

%20.png)

No comments: