পাকিস্তানে সরকারি হাসপাতালে সিরিঞ্জ পুনর্ব্যবহারে ৩৩১ শিশুর এইচআইভি সংক্রমণ: অনুসন্ধানে উদ্বেগজনক চিত্র
পাকিস্তানের তৌনসা শহরে সরকারি স্বাস্থ্যসেবায় গুরুতর অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠে এসেছে। ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৫ সালের অক্টোবরের মধ্যে চিকিৎসা নিতে আসা অন্তত ৩৩১ শিশুর দেহে এইচআইভি শনাক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে BBC-এর অনুসন্ধানী প্রতিবেদন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আক্রান্ত শিশুদের মায়েদের পরীক্ষা করা হলে মাত্র ৪ জনের শরীরে এইচআইভি পাওয়া যায়। ফলে বাকি অধিকাংশ শিশু হাসপাতালেই সংক্রমিত হয়েছে বলে জোরালোভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
অনুসন্ধানে যা উঠে এসেছে
২০২৫ সালে ধারণ করা একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, হাসপাতালের কিছু কর্মী একই সিরিঞ্জ একাধিক রোগীর ক্ষেত্রে ব্যবহার করছেন—যা সম্পূর্ণরূপে চিকিৎসা নীতিমালার পরিপন্থী। শুধু তাই নয়, ‘মাল্টি-ডোজ ভায়াল’ থেকে ওষুধ নেওয়ার ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত বা ফেলে দেওয়া সিরিঞ্জ পুনরায় ব্যবহার করার ঘটনাও ধরা পড়ে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের অনিয়ম সরাসরি রক্তবাহিত সংক্রমণ ছড়ানোর ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়, বিশেষ করে এইচআইভির মতো মারাত্মক ভাইরাসের ক্ষেত্রে।
মানবিক বিপর্যয়ের চিত্র
এই ঘটনার সবচেয়ে করুণ দিকটি উঠে আসে আক্রান্ত শিশুদের পরিবারের বক্তব্যে। আট বছর বয়সী মোহাম্মাদ আমিনের মা BBC-কে জানান, তার সন্তানের মৃত্যু ছিল অত্যন্ত বেদনাদায়ক।
“এইচআইভি পজিটিভ ধরা পড়ার কিছুদিনের মধ্যেই সে মারা যায়। প্রচণ্ড ব্যথায় ছটফট করত—মনে হতো যেন ফুটন্ত তেলে পুড়ছে,” বলেন তিনি।
দায়বদ্ধতা ও প্রশ্ন
এই ঘটনায় স্থানীয় স্বাস্থ্যব্যবস্থার তদারকি, প্রশিক্ষণ ও নিরাপত্তা প্রটোকল নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি শুধু অবহেলা নয়—বরং একটি প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতা, যার মূল্য দিতে হয়েছে নিরীহ শিশুদের।
উপসংহার
পাকিস্তানের এই ঘটনা উন্নয়নশীল দেশগুলোর স্বাস্থ্যখাতে নিরাপত্তা ও মান নিয়ন্ত্রণের বাস্তব চিত্র সামনে নিয়ে এসেছে। যথাযথ নজরদারি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হলে এমন বিপর্যয় ভবিষ্যতেও ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্টরা।



.png)

%20.png)

No comments: