তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে নতুন জল্পনা, ‘হিন্দুবিদ্বেষী’ স্ট্যালিনের সঙ্গেই ঘনিষ্ঠতা বাড়াচ্ছেন বিজয়?
আন্তজার্তিক ডেস্ক,
তামিলনাড়ুর সদ্য শপথ নেওয়া মুখ্যমন্ত্রী বিজয় থালাপতি শপথের একদিন পরই গিয়ে দেখা করলেন ডিএমকে প্রধান ও সাবেক মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিন-এর সঙ্গে। সোমবার (১১ মে) চেন্নাইয়ে স্ট্যালিনের বাসভবনে অনুষ্ঠিত এই বৈঠক ঘিরে এখন তামিল রাজনীতিতে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা।
নির্বাচনের আগে পর্যন্ত দুই নেতা একে অপরের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থানে ছিলেন। দুর্নীতি, পরিবারতন্ত্র ও রাজনৈতিক অপসংস্কৃতি নিয়ে স্ট্যালিনকে একাধিকবার নিশানা করেছিলেন বিজয়। অন্যদিকে বিজয়ের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও সক্ষমতা নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি ডিএমকে শিবিরও। কিন্তু ক্ষমতায় বসার মাত্র একদিন পরই সেই স্ট্যালিনের বাড়িতে সৌজন্য সাক্ষাতে হাজির হন বিজয়।
এই সাক্ষাতের ছবি প্রকাশ্যে আসতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে তীব্র প্রতিক্রিয়া। অনেকে প্রশ্ন তুলছেন, নির্বাচনের আগে যাকে রাজ্যের সমস্যার মূল হিসেবে তুলে ধরা হয়েছিল, ক্ষমতায় এসেই তার সঙ্গেই কেন এত ঘনিষ্ঠতা?
সমালোচকদের অভিযোগ, স্ট্যালিনের নেতৃত্বাধীন ডিএমকে দীর্ঘদিন ধরেই হিন্দু ধর্ম ও সনাতনী ঐতিহ্যের বিরুদ্ধে বিতর্কিত অবস্থান নিয়ে এসেছে। সনাতন ধর্মকে ‘ডেঙ্গু-ম্যালেরিয়ার মতো’ বলে তুলনা করা, মন্দির সংস্কৃতি নিয়ে কটাক্ষ, হিন্দু আচার-অনুষ্ঠানকে পশ্চাৎপদ হিসেবে উপস্থাপন—ডিএমকে নেতাদের একাধিক বক্তব্য অতীতে ব্যাপক বিতর্ক ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছিল। সেই কারণেই রাজনৈতিক মহলের একটি বড় অংশ স্ট্যালিনকে ‘হিন্দুবিদ্বেষী রাজনীতির প্রতীক’ হিসেবেও আখ্যা দিয়ে থাকে।
এমন পরিস্থিতিতে বিজয়ের এই ঘনিষ্ঠতা ঘিরে সাধারণ মানুষের মনেও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে—স্ট্যালিন যেভাবে দীর্ঘদিন হিন্দু ধর্ম ও সনাতনী সংস্কৃতির বিরোধিতা করে রাজনীতি করেছেন, ভবিষ্যতে বিজয়ও কি একই পথে হাঁটবেন? নাকি এটি শুধুই রাজনৈতিক সৌজন্য?
তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষমতার রাজনীতিতে আদর্শের চেয়ে সমীকরণই বড় হয়ে ওঠে। আর সেই কারণেই নির্বাচনী মঞ্চের কড়া ভাষা ভুলে এখন নতুন রাজনৈতিক বোঝাপড়ার দিকেই এগোচ্ছেন দুই নেতা।



.png)

%20.png)

No comments: