Advertisement

আপনার বিজ্ঞাপনটি দিতে ইমেইল করুন - worldhindutimesbd@gmail.com

শিরোনাম

$results={6} $label={recent}

পাকিস্তানে ফিরছে পুরোনো ইতিহাসের ছাপ! ইসলামপুরা থেকে কৃষ্ণনগর, বাবরি মসজিদ চক এখন জৈন মন্দির চক

 

পাকিস্তানের সাংস্কৃতিক রাজধানী লাহোরে  একাধিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকা, রাস্তা ও চকের নাম পরিবর্তন করে পুরোনো ঐতিহাসিক নাম পুনর্বহাল করা হয়েছে। পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রাদেশিক সরকারের উদ্যোগে নেওয়া এই পদক্ষেপ ঘিরে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা।


সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে ‘ইসলামপুরা’-র নাম পরিবর্তন করে পুনরায় ‘কৃষ্ণনগর’ করা এবং ‘বাবরি মসজিদ চক’-এর নাম বদলে ‘জৈন মন্দির চক’ রাখা। প্রশাসনের দাবি, শহরের বহুস্তরীয় ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক পরিচয় পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।


জানা গেছে, গত কয়েক মাস ধরে নাম পরিবর্তনের কাজ চলছিল এবং ইতিমধ্যেই বিভিন্ন এলাকায় নতুন সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে। শুধু কৃষ্ণনগর বা জৈন মন্দির চক নয়, আরও বেশ কয়েকটি এলাকার পুরোনো নাম ফিরিয়ে আনা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—

  • ‘মওলানা জাফর চক’ থেকে ‘লক্ষ্মী চক’
  • ‘মুস্তাফাবাদ’ থেকে ‘ধরমপুরা’
  • ‘স্যর আগা খান চক’ থেকে ‘ডেভিস রোড’
  • ‘ফাতিমা জিন্নাহ রোড’ থেকে ‘কুইন্স রোড’
  • ‘বাগ-ই-জিন্নাহ’ থেকে ‘লরেন্স রোড’

স্থানীয় ইতিহাসবিদদের মতে, সরকারি নথিতে নাম পরিবর্তন হলেও সাধারণ মানুষের মুখে বহু পুরোনো নাম এখনও প্রচলিত ছিল।

বিশেষভাবে আলোচিত হয়েছে ‘কৃষ্ণনগর’ নামের পুনর্বহাল। দেশভাগের আগে এলাকার নাম ছিল কৃষ্ণনগর। পরবর্তীতে পাকিস্তানের ইসলামিকরণ নীতির সময় সেটির নাম পরিবর্তন করে ‘ইসলামপুরা’ রাখা হয়। কয়েক দশক পর আবার পুরোনো নাম ফিরিয়ে আনা হল।


অন্যদিকে ‘জৈন মন্দির চক’-এর ইতিহাসও যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সেখানে একসময় একটি ঐতিহাসিক জৈন মন্দির ছিল। ১৯৯২ সালে বাবরি মসজিদ ডেমোলিশন -এর পর পাকিস্তানে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়লে ওই মন্দিরে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পরে এলাকার নাম রাখা হয়েছিল ‘বাবরি মসজিদ চক’। এবার সেই নাম সরিয়ে ফের ‘জৈন মন্দির চক’ নাম পুনর্বহাল করা হয়েছে।


এই পুরো উদ্যোগটি নেওয়া হয়েছে ‘লাহোর হেরিটেজ এরিয়া রিভাইভাল’ প্রকল্পের আওতায়। পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নেওয়াজ শরীফ -এর সমর্থনে প্রকল্পটি এগোচ্ছে বলে জানা গেছে। পাক পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী মারইয়াম নেওয়াজ জানিয়েছেন, লাহোরের ঐতিহাসিক প্রাচীরঘেরা শহরের আটটি ফটকও পুনরুদ্ধার করা হবে।


তবে এই সিদ্ধান্ত ঘিরে পাকিস্তানে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। একাংশের মতে, এটি পাকিস্তানের বহু-সাংস্কৃতিক অতীতকে স্বীকৃতি দেওয়ার ইতিবাচক পদক্ষেপ। অন্যদিকে সমালোচকদের দাবি, এর নেপথ্যে রাজনৈতিক কৌশলও থাকতে পারে। যদিও এখনও পর্যন্ত কোনও বড় কট্টরপন্থী গোষ্ঠী প্রকাশ্যে তীব্র বিরোধিতা করেনি।


সোশ্যাল মিডিয়াতেও বিষয়টি নিয়ে চলছে তুমুল আলোচনা। অনেকের মতে, লাহোরে নাম পরিবর্তনের এই উদ্যোগ শুধুই প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং পাকিস্তানের ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক পরিচয়কে নতুনভাবে তুলে ধরার একটি প্রচেষ্টা।

কোন মন্তব্য নেই:

অননুমোদিতভাবে কোনও বিষয়বস্তু অনুলিপি করা বা ব্যবহার করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ World Hindu Times All Rights Reserved |

World Hindu Times LTD

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.