Advertisement

আপনার বিজ্ঞাপনটি দিতে ইমেইল করুন - worldhindutimesbd@gmail.com

শিরোনাম

$results={6} $label={recent}

জলের নিচে লুকিয়ে থাকা রহস্যময় পাণ্ডব যুগের শিব মন্দির, বছরে মাত্র দুই মাস দর্শনের সুযোগ

 

ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্যের ভেলবন্দি নদীর বুকে লুকিয়ে রয়েছে এক রহস্যময় ও প্রাচীন শিব মন্দির, যার নাম কর্মহরেশ্বর। তবে কাম্বারে গ্রামের সীমানার মধ্যে অবস্থিত হওয়ায় স্থানীয়দের কাছে এটি “কাম্বারেশ্বর মন্দির” নামেই বেশি পরিচিত। জনশ্রুতি অনুযায়ী, এই মন্দিরটি পাণ্ডব যুগের এবং মহাভারতের পাণ্ডবরাই এটি নির্মাণ করেছিলেন।


মন্দিরটির সবচেয়ে বিস্ময়কর দিক হলো—বছরের প্রায় ১০ মাস এটি বাঁধের জলের নিচে ডুবে থাকে। শুধুমাত্র মে ও জুন মাসে পানি কমে গেলে মন্দিরটি আবার দৃশ্যমান হয় এবং তখনই ভক্ত ও দর্শনার্থীরা সেখানে যেতে পারেন।



স্থানীয়দের বর্ণনা অনুযায়ী, বহু বছর আগে সেখানে কোনো বাঁধ ছিল না। এলাকাটি ছিল কৃষিজমি। একদিন এক কৃষক জমিতে চাষ করার সময় হঠাৎ তার লাঙল একটি শক্ত পাথরের সঙ্গে আঘাতপ্রাপ্ত হয়। তিনি কাছে গিয়ে লাঙল সরিয়ে ফিরে তাকাতেই দেখতে পান, যেখানে আঘাত লেগেছিল সেখান থেকে রক্ত বের হচ্ছে। এই অলৌকিক দৃশ্য দেখে আতঙ্কিত কৃষক দ্রুত বাড়ি ফিরে যান এবং কাউকে কিছু না বলে রাত কাটান।

পরদিন সকালে তিনি আবার সেই জমিতে গেলে বিস্মিত হয়ে দেখেন, আগের দিনের সেই স্থানে একটি স্বয়ম্ভু শিবলিঙ্গ এবং বর্তমান মন্দিরটি দৃশ্যমান হয়েছে। পরে তিনি পুরো ঘটনাটি গ্রামবাসীদের জানান। এরপর থেকেই স্থানটি ধর্মীয়ভাবে অত্যন্ত পবিত্র বলে বিবেচিত হতে থাকে।

বর্তমানে বর্ষাকালে নদীর জলের সঙ্গে বয়ে আসা কাদামাটির কারণে মন্দিরের অনেকাংশ চাপা পড়ে যাচ্ছে। তবুও মন্দিরের ভিত্তি ও প্রাচীন নির্মাণশৈলী এখনও দৃঢ়ভাবে টিকে আছে। নদীর প্রবল স্রোত ও ঢেউয়ের কারণে কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও মূল কাঠামো এখনো অক্ষত রয়েছে।



মন্দিরের ভেতরে রয়েছে একটি স্বয়ম্ভু শিবলিঙ্গ, মা পার্বতীর মূর্তি এবং নন্দী। একসময় মন্দিরে প্রবেশের জন্য সিঁড়ি দিয়ে উপরে উঠতে হতো। কিন্তু বছরের পর বছর কাদা জমতে জমতে সেই অংশ এখন প্রায় চাপা পড়ে গেছে।

মন্দিরের সামনে একটি প্রাচীন নন্দী চৌথারা রয়েছে। অতীতে সেখানে উঠতে হলে লাফ দিতে হতো, কিন্তু বর্তমানে কাদামাটির কারণে এর উচ্চতা মাত্র আধা থেকে এক ফুটের মতো দেখা যায়।


মন্দিরের ছাদ ও উপরের অংশ চুনাপাথর, বালি ও ইট দিয়ে নির্মিত হলেও এর দেয়ালগুলো সম্পূর্ণ বিশাল পাথর দ্বারা তৈরি। স্থানীয়দের দাবি, এই পাথরগুলো সাধারণ নয়, বরং প্রাচীন বিশেষ নির্মাণকৌশলের নিদর্শন বহন করে।

প্রাচীন ইতিহাস, লোককথা ও রহস্যে ঘেরা এই শিব মন্দির এখনো বহু মানুষের কাছে বিস্ময়ের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে আছে। প্রতি বছর পানি সরে গেলে দূরদূরান্ত থেকে ভক্তরা সেখানে ছুটে আসেন দর্শনের জন্য।

কোন মন্তব্য নেই:

অননুমোদিতভাবে কোনও বিষয়বস্তু অনুলিপি করা বা ব্যবহার করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ World Hindu Times All Rights Reserved |

World Hindu Times LTD

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.